প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 11, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 20, 2026 ইং
মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা সদর কমপ্লেক্স স্থাপনে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির

আনোয়ার হোসেন (শোবিজ আনোয়ার) প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর।
লক্ষ্মীপুর জেলার, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা সদর কমপ্লেক্স স্থাপনের বিষয়ে করা আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। গত ২রা আগস্ট ২০২৬ বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আদেশ পাওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদনকারীর করা ১১ জুন ২০২৬ তারিখের আবেদনপত্র নিষ্পত্তি করতে হবে।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের করা রিট আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হলো। একই সঙ্গে বিবাদীদের আদেশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদনকারীর ১১ জুন ২০২৬ তারিখের আবেদনপত্র, যা রিটের সঙ্গে সংযুক্তি-ডি-১ হিসেবে দাখিল করা হয়েছে, তা নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
জানা গেছে, মোহাম্মদ হাসান নামে এক ব্যক্তি চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা সদর কমপ্লেক্স স্থাপনের বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ২০২৬ সালের রিট পিটিশন নং ৯০২৬-এ তিনি ২০০৪ সালের ২৪ অক্টোবর জারি করা সংশ্লিষ্ট সার্কুলার বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরেন। ওই সার্কুলারের স্মারক নম্বর এমপবি. নিকার/১(৩)/ক্যাম/১৮৫(৯৫)।
রিট আবেদনে বলা হয়, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা সদর কমপ্লেক্স স্থাপনের বিষয়ে আবেদনকারী গত ১১ জুন ২০২৬ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই আবেদন নিষ্পত্তি না করায় কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ঘোষণা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
শুনানিকালে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট আফরোজা সুলতানা আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। আদালত রিট আবেদন ও এর সঙ্গে দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আবেদনটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আকতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাবসহ সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আফরোজা সুলতানা।
হাইকোর্টের এ আদেশকে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা সদর কমপ্লেক্স স্থাপনের দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আদালতের আদেশে সরাসরি কমপ্লেক্স স্থাপনের চূড়ান্ত নির্দেশ না দিয়ে, আবেদনকারীর ১১ জুনের আবেদনটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিবেচনা ও নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপরই পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ভর করছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, আদেশ পাওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে আবেদনটি নিষ্পত্তি করার কথা রয়েছে। এতে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা সদর কমপ্লেক্সের স্থান ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিষয়ে নতুন করে প্রশাসনিক তৎপরতার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
© দৈনিক চেতনার কন্ঠ